দৈনিক সান্তাহার

অবহেলিত দুই বধ্যভূমি

 

সান্তাহার ডেস্ক:: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর হওয়ার পর বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৮০০ তরুণ-যুবক যুদ্ধে অংশ নেন। ৯ মাসের গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন ২৩ জন্য মুক্তিযোদ্ধা। হানাদার বাহিনী উপজেলার শ্মশান ঘাঁটি ও সুদিন রেলসেতু সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে অনেক মানুষ হত্যার করে। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও সেইসব শহীদের স্মরণে দুই বধ্যভূমিতে নির্মিত হয়নি কোনও স্মৃতিস্তম্ভ। প্রতিবছর বিজয় ও স্বাধীনতা দিবসে প্রশাসন শ্মশান ঘাঁটি বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। তবে রেলসেতু বধ্যভূমি পড়ে রয়েছে অবহেলায়। এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা দুটি স্থানেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আদমদীঘি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল হামিদ জানান, উপজেলায় শহীদদের অন্যতম হলেন, ছাতিয়ান ইউনিয়নের কোমারপুর গ্রামের আব্দুল জলিল আকন্দ, চকসোনার গ্রামের আলতাফ হোসেন মণ্ডল, চাঁপাপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের মনসুরুল হক টুলু ও আব্দুস ছাত্তার। আদমদীঘিতে গেরিলা যুদ্ধ করতে এসে তারা এক সহযোদ্ধার বেঈমানিতে রাজাকারদের হাতে আটক হন। পাকিস্তানি দালাল ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান (পরবর্তীতে বিএনপির এমপি) আব্দুল মজিদ তালুকদার আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রকাশ্যে বিচার বসায়। চেয়ারম্যান নিজে ও আসকর নামে তার এক সহযোগী সাক্ষী দিয়ে আটকদের ‘মুক্তি ফৌজ’ প্রমাণ করে। এরপর তাদের তুলে দেয় পাকিস্থারি বাহিনীর হাতে। এই চার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে থানা ক্যাম্পে আটক রাখা হয়। হানাদার ক্যাম্পের বাইরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে খেঁজুর গাছের কাঁটাওয়ালা ডাল ও রাইফেলের বেয়োনেট চার্জসহ প্রকাশ্যে নির্যাতন করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র এক মাস আগে ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর শনিবার সকালে উপজেলা সদরের খাড়ির ব্রিজ শ্মশান ঘাঁটিতে নিয়ে জনসম্মুখে গুলি করে হত্যা করা হয় ওই চার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। এ সময় স্থানীয় রাজাকার আব্দুল মজিদ তালুকদার এবং তার ছেলে আব্দুল মোমেন তালুকদার খোকাসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা আনন্দ-উল্লাস করেছিল। এই নির্মমতার দৃশ্য আজও মুক্তিযোদ্ধাদের তাড়া করে ফেরে।

মুক্তিযোদ্ধারা আরও জানান, স্বাধীনতার ৪২ বছর পর ২০১২ সালে সান্তাহারের কায়েতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সুবেদ আলী তার চার সহযোদ্ধা হত্যার দায়ে সে সময়ের রাজাকার (বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা) আব্দুল মোমেন তালুকদার খোকাকে আসামি করে বগুড়ার আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাব হোসেন মণ্ডলের ভাই আব্দুল জব্বার মণ্ডল বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় আসামি করা হয় পাকিস্তানি দালাল আব্দুল মজিদ তালুকদার (মৃত) ও তার ৩ ছেলে আব্দুল মতিন, আব্দুল মান্নান ও আব্দুল মমিন তালুকদার খোকার নাম উল্লেখ করেছিলেন। যদিও বিএনপি নেতা আবদুল মোমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দীর্ঘদিন থেকেই চার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে শ্মশান ঘাঁটির বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের দাবির মুখে, ১৯৯৬ সালে আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ থেকে সেখানে ভিত্তি ফলক স্থাপন হয়। এরপর প্রায় দেড় যুগ কেটে গেছে। কিন্তু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। আর সুদিন রেলসেতু সংলগ্ন বধ্যভূমিটিও লোক চক্ষুর আড়ালে যাওয়ার পথে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল হামিদ বলেন, ‘দুটি স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।’
সূত্র: বাংলাটিবিউন

>> সান্তাহার ডটকম/ইএন/৫ মার্চ ২০১৭ইং

About the author

Santahar Team

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *