সান্তাহারের ইতিহাস ঐতিহ্য

আদমদীঘির শ্বশান ঘাটিতে পাকবাহিনী নির্মম নির্যাতন করেছিল

আদমদীঘির শ্বশান ঘাটিতে পাকবাহিনী নির্মম নির্যাতন করেছিল

সান্তাহার ডেস্ক :: আদমদীঘি উপজেলা সদরে শ্বশান ঘাটিতে পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মমতার শিকার চার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও শেষ হয়নি। উপজেলার বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করা হলেও এই শ্বশানঘাটিটি শুধু ভিক্তিপ্রস্তর ফলক তৈরি করে কিছু অংশের কাজ করা করে রাখা হলেও থমকে রয়েছে নির্মান কাজ। বর্তমানে অর্থের অভাবে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভটি। এই চার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ জরুরি ভিক্তিতে নির্মানের জন্য উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতার পক্ষের মানুষরা আহবান জানান।

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনতার জন্য সেদিন অনেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি কেউবা সহযোগীতার মাধ্যমে অংশগ্রহন করেন। সারাদেশের ন্যায় পশ্চিম বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৫শতাধিকেরও অধিক তৎসময়ের টগবগে যুবকরা মহান এই মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহন করেন।

দীর্ঘ ৯ মাস পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের সাথে গেরিলা ও সম্মূখ যুদ্ধে অনেকে শহীদ হন আবার অনেক যোদ্ধা পঙ্গুত্ব বরন করেন। এই উপজেলায় ২৩জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এদের মধ্যে আদমদীঘি সদরে পাক-হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে কোমারপুর গ্রামের আব্দুল জলিল আকন্দ, চকসোনার গ্রামের আলতাফ হোসেন, কাঞ্চনপুর গ্রামের মনসুরুল হক টুলু ও আব্দুস ছাত্তার আটক হন।

এরপর পাক-হানাদার বাহিনী বীর এই চার মুক্তিযোদ্ধাকে আদমদীঘি থানায় নিয়ে খেজুর গাছের কাঁটাওয়ালা ডাল ও রাইফেলের বাটসহ বিভিন্ন ভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় ৪দিন ধরে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতন করার পর ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর আদমদীঘির খাড়ির ব্রিজ সংলগ্ন শ্বশান ঘাটিতে নিয়ে দিনের বেলা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এই নির্মমতার দৃশ্য আজও প্রত্যক্ষদর্শি অনেকের মনে তাড়া করে বেড়ায়। এই চার বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে শ্বশান ঘাটিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের দাবী মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের।

১৯৯৬ সালে উপজেলা পরিষদ থেকে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানে জন্য ভিত্তিপ্রস্তর ও ফলক তৈরী করে রাখার পর ২০১৮ সালে কিছু কাজ শুরু করে ফেলে রাখা হলেও আজও অদ্যবদি নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়নি। অযত্ম অবহেলা ও অর্থের অভাবে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে অসমাপ্ত কাজ ।

উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ, ডেপুটি কমান্ডার আবির উদ্দিন, মজিবর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে জানান, সরকার বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করলেও অর্থের অভাবের পাশাপাশি অযত্ম ও অরক্ষিত রয়েছে এই চার বীর শহীদের স্থানটি। তারা অবিলম্বে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দাবি করেন।

সান্তাহার ডটকম/এমএম/২৬ জুন ২০১৯ইং

About the author

Santahar Team

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *