সান্তাহারের বাহিরে

আদমদীঘি রেনুপোনা উৎপাদন ও বেচাকেনায় ধস

 

সান্তাহার ডেস্ক  :: করোনার ধাক্কার পাশাপশি বন্যার প্রভাবে দেশের মৎস্য ভান্ডার বলে খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ক্রেতা শূণ্যতার কারনে রেনুপোনা উৎপাদন ও বাজার জাতকরণের মাছবাজারে মারাত্মক ধ্বস নেমেছে। বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে এখানকার মৎস্যচাষী ও ব্যবসায়ীরা। রেনুপোনা ও বাজারজাতের মাছ বিক্রিতে ধ্বস নেমে আসার অনেক মৎস্য ব্যবসায়ী ব্যাংক ও এনজিও-এর ঋন পরিশোধ করতে পারছেন না। এই শিল্পে নিয়োজিত মৎস্যচাষী ও শতশত শ্রমিক বেকার ও অনেকেই অর্থের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আদমদীঘি উপজেলায় বড় ছোট মিলে প্রায় ৬ শতাধিক পুকুরে মাছচাষ হয়ে থাকে। রেনুপোনা উৎপাদনে ৫৫টি হ্যাচরী ও নার্সারি রয়েছে। আদমদীঘি সদরের পাবলিক লাইব্রেরির নিকট প্রতিদিন রেনুপোনা বাজার বসে। এই বাজারে চট্রগ্রাম, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহহ, দিনাজপুর, যশোহর, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের পাইকারগন রেনুপোনা মাছ ক্রয় করে ট্রাক যোগে নিয়ে যান। এছাড়াও বড় বাজারজাত করণের মাছও বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন এখানকার মৎস্যচাসীরা। আদমদীঘি ও আশে পাশের উপজেলার হাজার হাজার বেকার যুবক রেনুপোনা ও বাজারজাত মাছ বেচাকেনা করে বেকারত্ব দুর করে তাদের পরিবারের সচ্ছলতা ফিরে এনেছে। প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় কোটি টাকার মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে দেশের করোনা সংক্রমন ধাক্কার পাশাপশি বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষা ও বন্যার কারনে পুকুর ও জলাশয় ডুবে যাওয়ায় পাইকার না আসায় এখন তেমন আর রেনুপোনা উৎপাদন বেচাকেনা হচ্ছেনা। প্রতিদিনের বাজার গুলোতে ক্রেতাশূন্যতার কারনে রেনুপোনা ও বাজারজাত করনের বড় মাছ বাজারে মারাত্বক ধস নেমেছে। বেচাকেনা না থাকায় মৎস্যচাষী ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে তাদের ঋনের বোঝা নিয়ে। অর্থের অভাবে ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে আবার অনেক রেনুপোনা ব্যবসায়ী পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাবন করছে।

মেসার্স মায়ের দোয়া মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারি উপজেলা মৎস্য প্রডিউসার অর্গানাইজেশন ও ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস ও অঞ্চল ভিক্তিক বন্যার কারনে রেনুপোনার পাশাপশি দেশিজাতের বাজারজাত করণের মাছ আড়ৎতে পাইকার শূণ্যতার বিরাজ করায় মৎস্য শিল্পে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া মাছের খাবার মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারনে আদমদীঘিসহ পার্শ্ববতি উপজেলায় মৎস্য শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। সরকার ঘোষিত মৎস্যচাষীদের প্রনোদনা সঠিক সময়ে মৎস্য অফিসের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋন প্রদান করলে এখানকার রেনুপোনা ও বড় বাজারজাতের মাছ বিদেশে রফতারী করা সম্ভব হবে।

সান্তাহার ডটকম/ ১৭ আগস্ট ২০২০ইং /এমএম

About the author

Santahar Team

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *