দৈনিক সান্তাহার

ঈদে সান্তাহার শখের পল্লীতে উপচে পড়া ভিড়

ঈদে সান্তাহার শখের পল্লীতে উপচে পড়া ভিড়

তরিকুল ইসলাম জেন্টু :: ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে সান্তাহারের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এখন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের আনন্দকে আরো বেশি স্মরণীয় করে রাখতে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও মেতে উঠেছে আনন্দে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার সান্তাহার পৌর এলাকার বশিপুরে গড়ে উঠা অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিনোদন পার্ক শখের পল্লীতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ছোট থেকে বড় সাবই যেন মেতে উঠেছে ঈদ উচ্ছ্বাসে।

সান্তাহারে তেমন ভালো কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় রেলওয়ে জংশন শহর সান্তাহার বরাবরই ছিল পিছিয়ে। বিনোদন পিপাসুদের যেতে হতো রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরসহ দুর দুরান্তে। তাই আধুনিক ও দৃষ্টি নন্দন এই বিনোদন কেন্দ্র তৈরী হওয়ায় বিনোদনপ্রেমীরা হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠেছে শখের পল্লী।

ঈদ উপলক্ষে আধুনিক সব রাইডসে বাচ্চাদের চড়ানোর পাশাপাশি মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে স্ব-পরিবারে সময় কাটাতে পার্কে এসেছে হাজারো মানুষ। এদিকে সান্তাহার সাইলো সড়কে ফারিস্তা পার্ক, খামার বাড়ি, কদমা মৎস্য খামার, রক্তদহ বিলপাড় এলাকাগুলোতেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।

পার্ক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী থেকে শখের পল্লী পার্কের কার্যক্রম শুরু হয়। সান্তাহার পৌরসভা এলাকার বশিপুরে প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে নির্মিত পার্কটিতে রয়েছে মিনি চিরিয়াখানা। সেখানে দেখা মিলে বানোর, খরগোশ, অষ্ট্রেলিয়ান ঘুঘু, কাকাতুয়া, লাভবার্ড, বাজুরিকাসহ বিভিন্ন ধরনের পাঁখি।

ঈদে সান্তাহার শখের পল্লীতে উপচে পড়া ভিড়

আরো রয়েছে সুইমিং পুল, কমিউনিটি সেন্টার, পিকনিক কর্নার ও ক্যাবল কার। বাচ্চাদের খেলার জন্য দোলনা, সুপার চেয়ার, পিচ্ছিল, মই, স্পিড বোর্ডে, প্যাডেল বোর্ড, জলপরীর ভাস্কর্য, মিনি ট্রেনলাইন যা বাচ্চাদের কাছে অতি জনপ্রিয়। সেখানে স্টেশনটির নাম দেয়া আছে ষাটবাড়ী স্টেশন। ভাস্কর্যের মধ্যে বিশালাকারের ঈগল, জলপরী, মৎসকন্যা, পেঙ্গুঈন, হাতি, হরিণ, বাঘ, ক্যাঙ্গারু, ঘোড়া, জিরাফ, বকসহ ইত্যাদি। দেয়ালে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্যের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এ ছাড়াও, রয়েছে ধ্রুবতারা ও শুকতারা নামের কটেজ যা গেষ্টহাউজ হিসেবে ব্যবহার হয়। এই গেষ্ট হাউজে দুর-দুরান্ত থেকে পর্যটকরা এসে থাকতে পারবেন। রয়েছে মসজিদ। নামাজের সময় হলে পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও দর্শনার্থীরাও এখানে নামাজ আদায় করে থাকেন। খাবারের জন্য রয়েছে রেস্টুরেন্ট ও কনফেকশনারী। শখের পল্লীর প্রধান আকর্ষণ সুইমিং পুল। ঈদ উপলক্ষ্যে সুইমিং পুলে প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বগুড়ার গাবতলী থেকে আসা আবু মুসার সাথে কথা হলে তিনি জানান, পরিবার নিয়ে এসে মফস্বল শহরের নির্জন পরিবেশ ভিন্ন সাধ ও অত্যাধুনিক রাইডে চড়ে ঈদের বাড়তি আনন্দ পেয়েছেন। তবে কিছু কিছু রাইড আছে যা মধ্যবিত্তদের সাধ্যের বাইরে। কিছু কিছু রাইডের ফি কম হলে আরো ভাল হত। তারপরও পরিবারকে নিয়ে এক সাথে ঘুরতে পেরে খুব আনন্দ পাচ্ছেন।

কথা হয় রংপুর থেকে আসা রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, পরিবারের সকলে শখের পল্লী পার্কে এসে অন্যদের মত আমরাও বাড়তি ঈদ আনন্দ উপভোগ করছি। পার্কটি আমাদের কাছে খুবই ভাল লেগেছে। আগামীতে আবার আসব চিন্তা করছি।

‘শখের পল্লী’র সত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালে শুরুর দিকে প্রায় ৪৫ বিঘা জমির উপর আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটি চালু করা হয়। তবে বাণিজ্যিক ভাবে মুনাফা অর্জন করা আমার লক্ষ নয়।
শিশুদের নির্মল আনন্দ দেয়ার জন্যই এই পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। আমি চেষ্টা করছি এই শখের পল্লী পার্ককে আন্তর্জাতিক মানের পার্ক করার। বিভিন্ন রকমের রাইডের ব্যবস্থার পাশাপাশি দর্শনার্থীর প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘোরাঘুরির জন্য পার্কের পরিসর বৃদ্ধি করেছি। আমি আশা করি কোনো দর্শনার্থী এখানে এসে নিরাশ হবে না। আমি সাধ্য মত চেষ্টা করছি দর্শনার্থীরা এসে সকল কিছু যেন একসঙ্গে পায়।

সান্তাহার ডটকম/ইএন/৮ জুন ২০১৯ইং