সান্তাহারের ইতিহাস ঐতিহ্য

মুক্তিযুদ্ধ প্রেক্ষাপটে সান্তাহার

muktijudhaসান্তাহার বৃটিশ ভারতের এক বিখ্যাত রেলজংশন শহর। ১৯৪৭ এর পরে এখানে ভারত থেকে এসে বিপুল সংখ্যক অবাঙ্গালি (বিহারী) বসবাস শুরু করে। আগমনের পর থেকেই তাঁরা আধিপত্য বিস্তারের খেলায় মেতে উঠে। বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে সামাজিক ত্রাস সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে মুসলিমলীগের ক্ষমতার ছায়ায় পাঞ্জাবী শাসক চক্রের দালালীতে নেমে পড়ে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙ্গালিরা ঐক্যবদ্ধ হতে থাকলে সান্তাহারে ক্রমান্বয়ে অবাঙ্গালি ও বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক বিরাট দূরত্ব ও বৈরিতার আগুন জ্বলে উঠে। বিশেষ করে ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খাঁন সামরিক আইন জারির পর পরই সর্বপ্রথম সান্তাহারে আসেন এবং মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠের জনসভায় ভাষণ দেয়ার পর থেকে অবাঙ্গালিরা আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠে। পাশাপাশি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, মাওলানা ভাসানীকে দেখতাম প্রায়ই সান্তাহারে আসতেন, ভাষণ দিতেন, ডাক বাংলোয় থাকতেন। আমাদের কলসার ফয়েজ উদ্দিন আহম্মেদ তখন এই জনপদের এক তুখোর বক্তা এবং আওয়ামীলীগ রাজনীতির গোড়াপত্তনকারী। মূলতঃ তারই স্নেহাশীষে আমরা অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের পতাকা তলে সমবেত হই। ডাঃ আফজাল হোসেন পরবর্তীতে ডাঃ মহসিন আলী মল্লিক প্রমুখদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অত্রাঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রসার ঘটে এবং বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রচন্ডভাবে শানিত হয়ে উঠে। এরই এক পর্যায়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পরে ১৯৭০ এর নির্বাচনে জনাব কছিম উদ্দিন আহম্মেদ আওয়ামী লীগে এলে নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানে এবং ১৯৭০ এর অগ্নিঝরা বাঙ্গালি বিপ্লবের দিনগুলিতে এখানকার অবাঙ্গালিদের বিশাল ও সশস্ত্র শক্তির বিরুদ্ধে তৎকালীন ছাত্রলীগের সান্তাহার বৃটিশ ভারতের এক বিখ্যাত রেলজংশন শহর। ১৯৪৭ এর পরে এখানে ভারত থেকে এসে বিপুল সংখ্যক অবাঙ্গালি (বিহারী) বসবাস শুরু করে। আগমনের পর থেকেই তাঁরা আধিপত্য বিস্তারের খেলায় মেতে উঠে। বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে সামাজিক ত্রাস সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে মুসলিমলীগের ক্ষমতার ছায়ায় পাঞ্জাবী শাসক চক্রের দালালীতে নেমে পড়ে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙ্গালিরা ঐক্যবদ্ধ হতে থাকলে সান্তাহারে ক্রমান্বয়ে অবাঙ্গালি ও বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক বিরাট দূরত্ব ও বৈরিতার আগুন জ্বলে উঠে। বিশেষ করে ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খাঁন সামরিক আইন জারির পর পরই সর্বপ্রথম সান্তাহারে আসেন এবং মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠের জনসভায় ভাষণ দেয়ার পর থেকে অবাঙ্গালিরা আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠে। পাশাপাশি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, মাওলানা ভাসানীকে দেখতাম প্রায়ই সান্তাহারে আসতেন, ভাষণ দিতেন, ডাক বাংলোয় থাকতেন। আমাদের কলসার ফয়েজ উদ্দিন আহম্মেদ তখন এই জনপদের এক তুখোর বক্তা এবং আওয়ামীলীগ রাজনীতির গোড়াপত্তনকারী। মূলতঃ তারই স্নেহাশীষে আমরা অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের পতাকা তলে সমবেত হই। ডাঃ আফজাল হোসেন পরবর্তীতে ডাঃ মহসিন আলী মল্লিক প্রমুখদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অত্রাঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রসার ঘটে এবং বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রচন্ডভাবে শানিত হয়ে উঠে। এরই এক পর্যায়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পরে ১৯৭০ এর নির্বাচনে জনাব কছিম উদ্দিন আহম্মেদ আওয়ামী লীগে এলে নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানে এবং ১৯৭০ এর অগ্নিঝরা বাঙ্গালি বিপ্লবের দিনগুলিতে এখানকার অবাঙ্গালিদের বিশাল ও সশস্ত্র শক্তির বিরুদ্ধে তৎকালীন ছাত্রলীগের আগেই সান্তাহার হয়ে উঠেছিল মুক্তিসংগ্রামের অঘোষিত সেক্টর। অবশেষে অত্রাঞ্চলের দামাল ছেলেরা ৭নং সেক্টরের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে সান্তাহার ও দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করেন। তৎকালীন কমান্ডার এলকে আবুল হোসেন, আজমল হোসেন, মুনছুর রহমান, ফজলুল হক, মেজর হাকিম, সেনা সদস্য আব্দুস সামাদ প্রমুখদের সহ আমি সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সংগ্রামী অভিবাদন জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি শহিদ আজিজার রহমান, শহিদ আশরাফ, শহিদ সুজিত সহ সকল শহিদ ভাইদের বিদেহী আত্মাকে।
ছবি:: সংগৃহিত
>> গোলাম মোরশেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা
পলিটিক্যাল মটিভেটর, কামারপাড়া ক্যাম্প, ভারত
কো-অর্ডিনেটর গনবাহিনী (আদমদীঘি)
সান্তাহার ডটকম/গোলাম মোরশেদ/১৫-০৪-২০১৬ইং