দৈনিক সান্তাহার

মুরইল থেকে সান্তাহার চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ

তরিকুল ইসলাম জেন্টু :: বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের দরপত্র আহ্বানের তিন বছর পার হলেও সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ না করায় আদমদীঘি অংশে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ৪৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সাড়ে ১০ কিলোমিটার জুড়েই খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। নির্ধারিত সময়ে কাজ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতাকে দুষছে সড়ক বিভাগ। তারা বলছেন ভোগান্তি দূর করতে অতিসত্বর বর্তমান ঠিকাদারকে বাতিল করে নতুন ঠিকাদার অথবা নিজস্ব ম্যাটেরিয়ালস ও জনবলের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করবেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের উপর থেকে উঠে গেছে পিচ আর খানাখন্দ, বড় বড় গর্তে হেলে দুলে যান চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের যাত্রীদের। ৪৫ কিলোমিটার এ সড়ক দিয়ে গড়ে প্রতিদিন আড়াই থেকে ৩ হাজার যান চলাচল করে থাকে, ভাঙাচুরা সড়কের কারণে নিত্য দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যাত্রীরা। বেহাল এ সড়কের কারণে প্রায় ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। পুঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকেই।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে একনেকে পাস হওয়া বগুড়া নওগাঁ-আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন কাজের এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয় ২শ’ কোটি টাকা। তিন বছর আগে এ দরপত্রের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নের কাজটি সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব পায় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বগুড়া থেকে দুপচাঁচিয়া পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু অবশিষ্ট অংশের কাজ নাভানা কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজও সম্পন্ন করতে পারেনি। ফলে আদমদীঘি উপজেলার মুরইল থেকে সান্তাহার পশ্চিম ঢাকা রোড পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ইতিমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২ কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হচ্ছে। জমানতের টাকা বায়োজাপ্ত করে এ জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগাড়ে জমা করা হবে। সেই সাথে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিলের জন্য গত মাসের ২১ জুলাই সুপারিশ করা হয়েছে।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারণে মূলত সড়ক উন্নয়নের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল হলে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অথবা নিজস্ব ম্যাটেরিয়ালস ও জনবল দিয়ে সড়কটির কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সান্তাহার ডটকম/২৬ আগস্ট ২০২০ইং/এমএম