সান্তাহার জংশন

লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

santahar newsসান্তাহার ডেস্ক:: সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে রেলওয়ের পুরাতন মালামাল সরবরাহের নামে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাকর্মী, জিআরপি পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা ও উপস্থিতিতে এই লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সান্তাহার রেলওয়ে ইয়ার্ড থেকে নিলামে বিক্রয়কৃত রেলের পুরাতন মালামাল সরবরাহের সময় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগে জানা গেছে, সম্প্রতি রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চল জোনের রাজশাহী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কার্যালয় দরপত্রের মাধ্যেমে সান্তাহার স্টেশন ইয়ার্ডে রক্ষিত পুরাতন অকেজো ব্রিজের এইচবিমসহ মিশ্র মালামাল বিক্রি করে। চট্টগ্রামের রফিকুল আলম নামের ব্যক্তি ৬৮.১৫৮ মেট্রিক টন মালামাল ক্রয় করেন। গত ২৯ মার্চ তারিখের ২০১৭/২২ নম্বর বিক্রয়াদেশ নম্বরে সৈয়দপুর জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কার্যালয় বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের পিডব্লিউ অফিসের নিকটে থাকা অকেজো মিশ্র মালামাল সরবরাহ নেওয়ার জন্য মালামালের ক্রেতা চট্টগ্রামের রফিকুল আলমকে অনুরোধ জানিয়ে পত্র দেয়া হয়। সেই মোতাবেক রফিকুল আলমের প্রতিনিধি মিছবাহ উদ্দীন জাহিদ ক্রয়কৃত ৬৮.১৫৮ মেট্রিক টন অকেজো মিশ্র এ মালামাল গ্রহণের জন্য সান্তাহর স্টেশনে আসেন। তিনি সোমবার সকালে লোকবল ও ট্রাক নিয়ে মালামাল নেওয়ার জন্য সান্তাহার ইয়ার্ডে আসেন। এ সময় এলাকাবাসী জানতে পারেন মালামালের ক্রেতা সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, জিআরপি পুলিশ, নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে যোগসাজশ করে ক্রয়কৃত মালামালের চেয়ে অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসী ও সরকার দলীয় বেশ কিছু নেতাকর্মী মালামাল গ্রহণে বাধা দিলে ক্রেতা ও তার লোকজন মালামাল নেওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়। পরে রাতে মালামাল ক্রেতার প্রতিনিধি সান্তাহার জিআরপি থানায় থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ও কয়েকজন সরকারদলীয় নেতা, রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে গোপন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে পুলিশের সহযোগিতায় মালামাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার ও বুধবার সকাল থেকে জিআরপি ওসি আরিফুর রহমান ও নিরাপত্তাবাহিনীর সি আই, এএসআই রাজ্জাকের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত মালামাল নিতে সাহায্য করে। অভিযোগে জানা গেছে, রেল পুলিশ, নিরাপত্তাবাহিনী, সৈয়দপুরের এস এস/ এ/ই স্টোর শরিফ বিশ্বাস ও কতিপয় সরকার দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ক্রেতা শতাধিক মেট্রিক টন মালামাল বেশি নিয়ে গেছে। সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আসলাম সিকদার জানান, এ ঘটনায় দল ও পুলিশ তিন লাখ টাকা নিয়েছে। তিনি রাতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওসি আরিফুর রহমান বৈঠকের কথা অস্বীকার করে বলেন, মালামালের ক্রেতা তার কাছে সহযোগিতার জন্য এসেছিল কিন্তু কোনো দলীয় লোক আসেননি। এ বিষয়ে রেলওয়ে সৈয়দপুর জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের এসবি তোজাম্মেল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি। সূত্র: ইনকিলাব

>> সান্তাহার ডটকম/ইএন/৩০ এপ্রিল ২০১৭ইং

About the author

Santahar Team

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *