দৈনিক সান্তাহার

সান্তাহারে এসে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

santahar hasinaসান্তাহার ডেস্ক:: আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারও বিজয়ী করতে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ধারা থেমে যাবে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ খেয়ে-পরে মানুষ সুখে থাকে। কিন্তু যখন ধানের শীষ ক্ষমতায় ছিল তখনতো গোলা ভরা ধান ছিল না। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে শুধু নিজেরা খাবে, নিজেরা পরবে আর বিলাসিতা করবে। গতকাল বিকালে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্যগুদাম উদ্বোধন
করেন। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার মা বাবা ভাই বোন সব হারিয়েছি। আমার হারাবার কিছু নেই। আমার বাবা আপনাদের নেতা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি চেয়ে ছিলেন গরিবের মুখে হাসি ফুটবে, একটা মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না। কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। কোনো মানুষ রোগে ধুঁকেধুঁকে মরবে না। প্রত্যেকে সুন্দর জীবন পাবে। আমার জীবনেও একটাই লক্ষ্য। বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ পেট ভরে ভাত পাবে। রোগের চিকিৎসা পাবে। ছেলে মেয়ে শিক্ষা পাবে। উন্নত জীবন পাবে। আমি কি পেলাম না পেলাম সে চিন্তা আমি করি না। আমার মাথায় একটাই চিন্তা যে স্বপ্ন আমার বাবা দেখেছিলেন বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। কথায় বলে নিয়তগুণে বরকত। আমাদের সেই নিয়ত ভালো দেখেই আজকে বরকত হয়। আমাদের দেশে ভালো ফসল ফলে। উদ্বৃত্ত হয়। আমরা খাদ্য রপ্তানি করতে পারি। সেই যোগ্যতাও আজ বাংলাদেশ অর্জন করেছে।
তিনি আরো বলেন, আজ সর্বত্র বাংলাদেশের সম্মান। অথচ বিএনপি-জামায়াত যখন ক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশ সন্ত্রসী দেশ, বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ এই ধরনের একটা মনোভাব ছিল। আল্লাহর রহমতে আমরা বাংলাদেশকে মর্যাদা দিয়েছি। বাংলাদেশের মানুষকে সম্মান দিয়েছি। কারণ জাতির পিতা বলেছেন ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। আমরা ভিক্ষুক জাতি হতে চাই না। আমরা উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্ব সভায় মাথা তুলে দাঁড়াতে চাই। তিনি আরো বলেন, আজ যে কেউ ইচ্ছে করলে কাজ করে খেতে পারে। আমরা সেই সুযোগ করে দিয়েছি। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে মানুষ হত্যা করেছে। দুর্নীতি করেছে। লুটপাট করেছে। খালেদা জিয়ার ছেলেরা যে টাকা চুরি করেছে, ঘুষ-দুর্নীতি করেছে। সেই টাকা জনগণের টাকা। তারা বিদেশে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা সিঙ্গাপুরের ব্যাংক থেকে সেই টাকা ফেরত এনেছি।
তিনি বলেন, ২০১৪ তে নির্বচন ঠেকানোর নামে খালেদা জিয়ার হুকুমে ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে। শতশত বাস পুড়িয়েছে। গাড়ি পুড়িয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারদের আক্রমণ করেছে। পুলিশ বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার মানুষকে হত্যা করেছে। জীবন্ত মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। এটাই নাকি তাদের আন্দোলন। এটাই নাকি তাদের সংগ্রাম।
তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া হুকুম দিয়েছে তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা, সন্ত্রাসীরা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। শুধু মানুষ মেরেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা শতশত রাস্তার গাছ কেটেছে। রাস্তা কেটেছে। আমরা রাস্তা ঘাট তৈরি করেছি তারা কেটেছে। আমরা গাছ লাগিয়েছি তারা কেটেছে। মানুষের ওপর অত্যাচার, গাছের ওপর অত্যাচার, রাস্তার ওপর অত্যাচার করেছে। লুটপাট অত্যাচার-দুর্নীতিই তাদের কাজ।
তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন আওয়ামী লীগ উৎখাত না করে তিনি ঘরে ফিরবেন না, মানুষ পুড়িয়ে মারলে তাকে কখনো জনগণ সমর্থন দেয় না। বরং জনগণই তাদেরকে প্রতিরোধ করেছে। এজন্যই এদেশের মানুষকে আমি অভিনন্দন জানাই, তাদের এই জ্বালাও পোড়াও ঠেকিয়ে দেয়ার জন্য।
আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মৃধার সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, জাতীয় সংসদের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, হাবিবুর রহমান, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মজনু, সংসদ সদস্য আবদুল মালেক, সাধন মজুমদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল আলম, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।
বর্ণিল সাজে সান্তাহার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে ঘিরে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত ছিল সান্তাহার। এই সাজের ছোঁয়া লেগেছিল পাশের শহরগুলোতেও। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে এবং বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে রঙ-বেরঙয়ের পোস্টার-ব্যানার টানানো হয়েছিল গোটা এলাকায়। নির্মাণ করা হয়েছিল তিন শতাধিক তোরণ। বগুড়া শহরের শেষপ্রান্ত থেকে শুরু করে সান্তাহার আসার পথে কাহালু, দুপচাঁচিয়া, আদমদীঘি, সান্তাহার শহরের বিভিন্ন সড়ক, নওগাঁ, রানীনগরসহ আশেপাশের সড়কগুলোয় এসব তোরণ নির্মাণ করা হয়। অনেক তোরণের ওপর দলীয় প্রতীক নৌকা বানিয়ে রাখা হয়। সড়কগুলোর পাশে অবস্থিত বিভিন্ন বাসাবাড়ি, সরকারি-আধা সরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ছোট-বড় ভবন, ছোট-বড় বিলবোর্ডে সাঁটানো হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ।
সান্তাহার পৌর শহরে প্রবেশের প্রত্যেক মুখেই পুলিশি তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছিল। জনসভার আয়োজন নির্বিঘ্নে করতে সবদিকে সতর্ক দৃষ্টি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। মাঠে প্রবেশের সময় সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাশি করা হয়।
দেশের প্রথম বহুতল খাদ্য গুদাম: বগুড়ার সান্তাহার পৌর শহরে নির্মিত দেশের প্রথম বহুতল খাদ্য গুদাম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক উপ-সচিব প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা প্রদত্ত তথ্যে জানা যায়, জাপানের দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র সিংহ ভাগ আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৩ শত কোটি টাকা ব্যয়ে, দেশে প্রথম নির্মিত হল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বহতল খাদ্য গুদাম।
যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন: সান্তাহার বহুতল খাদ্য গুদাম প্রকল্প পরিদর্শন ও উদ্বোধন করা ছাড়াও এখান থেকে ফলক উদ্বোধন করেন জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, সোনাতলার বয়ড়া কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে নির্মিত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, গাবতলী উপজেলার মোস্তাফিজার রহমান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে নির্মিত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, শাজাহানপুর থানা ভবন, শাজাহানপুর উপজেলার সুলতানগঞ্জ হাইস্কুলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত হোস্টেল, শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, নন্দিগ্রাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন এবং সোনাতলা উপজেলার সিচারপাড়া-৩ গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প। পাশাপাশি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বগুড়া প্রেস ক্লাব ভবন ও বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, দুপচাঁচিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, গাবতলী উপজেলার খৈলসাকুড়ি ব্রিজ, একই উপজেলার জয়ভোগ ব্রিজ, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটফুলবাড়ী ব্রিজ, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সোনাতলা উপজেলার ১০ কিলোমিটার ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প।

>> সান্তাহার ডটকম/ইএন/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ইং

About the author

Santahar Team

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *