সান্তাহারের বাহিরে

সারের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিপাকে নওগাঁর কৃষক

সান্তাহার ডেস্ক :: ভরা মৌসুমে হঠাৎ নওগাঁয় বস্তা প্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। সরবরাহে ঘাটতি দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, প্রথম দিকে সরবরাহের কারণে সারের আকাল থাকলেও বাড়তি বরাদ্দে দূর হয়েছে সংকট। এ অবস্থায় সরকার নির্ধারিত দরের অতিরিক্ত অর্থ নিলে ডিলারদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহে নওগাঁয় রোপন করা ধানের গোছালীর বাড়ন্ত সবুজ পাতাগুলো কৃষকের সোনালী স্বপ্ন হয়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে। ফলন ভাল পেতে বাড়তি পরিচর্যার সাথে এসব ফসলে কৃষককে দিতে হচ্ছে সার ফসফেট। কিন্তু সার কিনতে গিয়ে বড় ধরনের হোঁচট খেতে হচ্ছে কৃষকদের। সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে এক বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

কৃষকরা জানান, আগে বস্তা প্রতি যে দাম ছিল; এখন প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি নিচ্ছে। এর কারণে বিঘা প্রতি ৪ হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ বেশি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রথম দিকে কিছুটা সরবরাহ ঘাটতিতে দাম বাড়লেও এখন স্বাভাবিক ধরেই সার বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ বদলগাছী শাওন টেডার্সের মো. সামসুল হক বলেন, আগে সাড়ে ৭০০ টাকা বিক্রি করেছি; সেটা এখন ৭৮০ থেকে ৭৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি।

সরকারের বেঁধে দেয়া দরের অতিরিক্ত অর্থ নিলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কৃষি বিভাগ। আর সার সমিতির নেতা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অসাধু ব্যবসায়ীদের সমিতি থেকে বাদ দেয়া হবে ।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সামসুল ওয়াদুদ বলেন, কোন ডিলার যদি অতিরিক্ত দাম নেয়; তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের জেলা ও উপজেলা কমিটি রয়েছে; যেখানে সমস্যা হবে সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন নওগাঁ শাখা সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, কোনক্রমে যাতে কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ না নেয়া হয় সেই বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলায় বিসিআইসির ১২৭ জন ও বিএডিসির নিবন্ধনকৃত ১৯৯ জন ডিলারের মাধ্যমে সার বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সান্তাহার ডটকম/২ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং/এমএম

About the author

Santahar Team

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *